আসল কাশ্মীরি শাল চেনার সহজ ৪ উপায়
শীতের ফ্যাশনে শাল একটা বড় ভূমিকা পালন করে। শাড়ি কিংবা সালোয়ার, সঙ্গে একটা বাহারি শাল নিয়ে নিলেই ফ্যাশন বদলে যায়। শাল ব্যবহারে পিছিয়ে নেই পুরুষরাও। আর অনেকেরই কাশ্মীরি শাল পছন্দ। কিন্তু অনেকগুলো টাকা খরচ করে নকল শাল কিনে ফেললে তো মন খারাপ হবেই। তাই নকলের ভিড়ে আসল শাল চিনে নিতে সহজ কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
পোড়ানো
শালের পাড় থেকে একটি সুতা আগুনে ধরুন। এটি পুড়ে যাওয়ার পর চুলের গন্ধ বের হলেই বুঝবেন এই শাল একদমই আসল। কারণ, কাশ্মীরি একদমই প্রাকৃতিক ফাইবার, তাই এটি আপনাকে এ রকম একটি পোড়া গন্ধই দেবে। পোড়া অংশটির কোনো জেল্লাও থাকবে না
না পুড়িয়ে পরীক্ষা
শালটি খাঁটি কি না, তা পরীক্ষা করা যাবে না পুড়িয়েও। এ জন্য শালটি হাতে নিয়ে সামান্য রোদের দিকে ধরতে হবে। আর না হলে এ শালের ওপর কৃত্রিমভাবেও আলো ফেলতে হবে। শালের ওপর আলো পড়লে সামান্য একটু চকচক তো করবেই। কিন্তু অতিরিক্ত চকচক করলে বুঝতে হবে, এই শাল নকল হতে পারে। তার মানেই এতে কোনো নকল ফ্যাব্রিক যোগ করা হয়েছে।
লোম দেখে বুঝার উপায়
শীতবস্ত্র থেকে লোম উঠলে অনেকেই কমবেশি চিন্তিত হয়ে থাকি। মনে করি, এতে সেই অসাধারণ শালের সৌন্দর্য কমতে পারে। এ ছাড়া সোয়েটার বা অন্যান্য উলের জিনিস থেকেও লোম ওঠে। একইভাবে কাশ্মীরি শাল খেকেও লোম উঠতেই পারে। আর এ বিষয়টি কিন্তু বেশ স্বাভাবিক। যদি দেখেন, শাল থেকে লোম উঠছে, তাহলে বুঝবেন শালটি আসল এবং মান ভালো।
স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয় কি না
কাশ্মীরি শাল গায়ে লাগলে যদি চুলকানি হয়, কিংবা পরে কোনো সমস্যা হয়, তবে বুঝতে হবে এই শালের সঙ্গে কোনো সিল্ক বা অন্যান্য সুতা মেশানো হয়েছে। কারণ, আসল কাশ্মীরি ফাইবার এতটাই নরম যে, তা পরলে গায়ে কখনো চুলকানি বা ব়্যাশ কোনোটাই হবে না।
কাশ্মীরি শালের গল্প

কাশ্মীরি শাল বা চাদর। অনেকদিন ধরে শীতে অভিজাতদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এ শাল। বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়।রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউ মার্কেট, মৌচাকসহ অনেক জায়গায় রয়েছে কাশ্মীরি শালের দোকান। সাধারণত এসব জায়গার দোকানিরা কলকাতা থেকে আমদানি করেন ওইসব শাল বা চাদর। হয়তো এ কারণে দেশি ক্রেতাদের অনেকেই আস্থা পান না তাদের পণ্যের ওপর। প্রায় সবাই খুঁজে বেড়ান এক প্রস্থ আসল কাশ্মীরি শাল।ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায়ও শতাধিক ছোট-বড় প্যাভিলিয়নে বিক্রি হচ্ছে কাশ্মীরি শাল। এর মধ্যে আসল শাল চেনার উপায় কী? দামই বা কত? তার আগে একটু জেনে নেওয়া যাক কাশ্মীরি শালের এত জনপ্রিয়তার হেতু কী? জানা যায়, প্রাচীনকালে এশিয়ার পূর্ব থেকে পশ্চিমে পণ্য সরবরাহের জন্য সিল্করুট চালু ছিল। কাশ্মীর এ রুটের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। সে সময় থেকেই কাশ্মীরিরা ব্যবসা-বাণিজ্যে সুপরিচিত। জানা যায়, চতুর্দশ শতকে মধ্য এশিয়া ও ইরান থেকে প্রায় সাতশ বুনন শিল্পী কাশ্মীরে এসে চাদর শিল্প গড়ে তোলেন। একজন দরবেশ তাদের নিয়ে এসেছিলেন।প্রচলিত আছে, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তার স্ত্রী সম্রাজ্ঞী জোসেফাইনকেও উপহার দিতেন কাশ্মীরি শাল। সম্রাজ্ঞী ওই শাল গায়ে জড়িয়ে ফ্যাশন শোতে অংশ নিতেন। একবার নেপোলিয়ন তার বান্ধবীকে চাঁদের আলোয় উম্মুক্ত দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি তার বান্ধবীর গায়ের চাদরটি ছাড়িয়ে নিয়েছিলেন। এরপর তার বান্ধবী আরেকটা নতুন শাল গায়ে জড়ান। সেটি ছাড়িয়ে নেওয়ার পর আরেকটা। এভাবে চাদর ছাড়িয়ে নিতে আর নতুন চাদর গায়ে জড়াতে জড়াতে সূর্যোদয় হয়েছিল। তবে নেপোলিয়নের স্ত্রীর কাছে সংরক্ষিত কাশ্মীরি শাল শেষ হয়নি। এতে ধারণা করা যায়, ইউরোপেও কাশ্মীরি শাল রফতানি হতো।কাশ্মীরের বিখ্যাত এ শালের নামপোশমিনা। ভেড়া ও বকরির পশম দিয়ে তৈরি হয় এর সুতা। হাতে তৈরি বিশেষ লুম দিয়ে বোনা হয়। একেকটি শাল এতই মিহি যে, তা আংটির ভেতর দিয়ে পার করা যেত। এ যেন ঠিক ঢাকার মসলিনেরই কাশ্মীরি সংস্করণ। ইউরোপে জনপ্রিয় কাশ্মীরি শালের অপর মডেল হলো ‘কানি’ শাল। এটি বুননের জন্য ‘রাফগারি নিডল’ নামে এক ধরনের বিশেষ সুঁই ব্যবহৃত হতো। ব্রিটিশ আমলে কাশ্মীরি শাল বুননের কাজে জড়িত শ্রমিকরা ব্যাপক শোষণের শিকার হয়েছিল।এখনও শাল তৈরি হয় কাশ্মীরে। খাঁটি পোশমিনার দাম এখন ১০ হাজার রুপি বা তার বেশি। ঢাকার বাণিজ্যমেলায় সেই খাঁটি পোশমিনার দেখা মেলা ভার। এখানে দু-একটি স্টলে সেমি-পোশমিনা পাওয়া যাচ্ছে। দাম তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এগুলো বোনা হয় পোশমিনা সুতার উচ্ছিষ্ট থেকে। কানি শালও পাওয়া যাচ্ছে বাণিজ্যমেলায়। এর দাম ঢাকার বাজারে চার হাজার টাকার কাছাকাছি। এখনকার বাজারে কাশ্মীরি শাল হিসেবে যেগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেগুলো মূলত উলের তৈরি।উলের তৈরি শালগুলোও কাশ্মীরে বোনা হয়।(গল্পের অংশ গুগল থেকে নেয়া হয়েছে)
Reviews
There are no reviews yet.